ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

আদালতের কড়া অবস্থানে স্কুল থেকে উধাও একের পর এক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পুজোর পরেই শিক্ষকদের পদত্যাগের ঢল!

শিক্ষকদের ইস্তফা

নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতিতে হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এরই মধ্যে স্কুল থেকে আচমকা উধাও একের পর এক শিক্ষাকর্মী। পুজোর ছুটি মিটলেই শিক্ষকদের ইস্তফার জল্পনা শুরু হয়েছে। 

পুজোর ছুটি পড়ার আগে থেকেই স্কুলের গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মীদের একাংশ উধাও হতে শুরু করেছেন। জেলায় জেলায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক শিক্ষাকর্মী। মনে করা হচ্ছে এই শিক্ষাকর্মীরা বেআইনিভাবে চাকরি পেয়েছিলেন বলেই ভয়ে স্কুল আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বেআইনিভাবে নিযুক্ত শিক্ষকদেরও আগাম পদত্যাগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শিক্ষাকর্তাদের আশঙ্কা, পুজোর ছুটি শেষ হলেই অবৈধভাবে নিযুক্ত শিক্ষকদের পদত্যাগের ঢল নামবে।

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৯৭৩ জন গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীর অবৈধ নিয়োগের কথা সামনে এসেছিল আগেই। তাঁদের একটা বড় অংশ পুজোর ছুটি পড়ার আগেই স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষাকর্মীদের অনেকেই অবশ্য পদত্যাগের পথে হাঁটেননি। তবে অনেকেই এবার পদত্যাগের পথে হাঁটবেন বলে মনে করা হচ্ছে। 

স্কুল সার্ভিস কমিশনের রিপোর্ট পেশের পরে দেখা যায়, গ্রুপ ডি-তে ২,৮২৩ জন এবং গ্রুপ সি-তে ৩,৪৮১ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নম্বরের অদলবদল হয়েছে। শুধু তাই নয়, একাদশ-দ্বাদশের ৯০৭ জন এবং নবম-দশম স্তরে ৯৫২ জন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বেনিয়ম হয়েছে। অর্থাৎ ৮ হাজার জনেরও বেশি জনের নম্বর অদল-বদল করা হয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এই অবৈধ চাকরিপ্রাপকদের ৭ নভেম্বরের মধ্যে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাঁদের বরখাস্ত করা হবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। শুধু তাই নয়, হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এঁদের সরকারি চাকরি পাওয়ার সব সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

বিচারপতির নির্দেশের কয়েকদিনের মধ্যে সন্দেহজনকভাবে কয়েকজন শিক্ষাকর্মী স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে প্রধান শিক্ষকদের দাবি। তালিকায় রয়েছেন বেশ কিছু শিক্ষকও। সম্ভবত ছুটি পড়ে যাওয়ার কারণেই সরকারিভাবে পদ্ধতি মেনে কেউ পদত্যাগ করতে পারেননি। অক্টোবরের শেষে স্কুল খুললেই সরকারিভাবে পদত্যাগ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।