ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

সুপ্রিম কোর্টের লড়াই! ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ক্যাভিয়েট দাখিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং শিক্ষকের

  সুপ্রিম কোর্টের লড়াই! ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ক্যাভিয়েট দাখিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং শিক্ষকের

নিউজ ডেস্ক: এবার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ।  নিয়োগে জটিলতা বাড়তে পারে এই আশঙ্কাতে ক্যাভিয়েট দাখিল পর্ষদের। পর্ষদ মনে করছে, প্রাথমিকের নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন দুই পক্ষই। তার জেরে যাতে এক তরফা শুনানী না হয় বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অগোচরেই যাতে শুনানি না হয় তার জন্যই ক্যাভিয়েট করল পর্ষদ। 

৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ মামলায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে দু'টি ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে। একটি দাখিল করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। অন্যটি করেছেন এক শিক্ষক। সম্প্রতি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করেন। যদিও ডিভিশন বেঞ্চ তাতে স্থগিতাদেশ দিয়ে তিন মাসের মধ্যে ইন্টারভিউ নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

২০১৬ সালে রাজ্যজুড়ে প্রাথমিকের শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন মোট ৪২,৫০০ জন। এর মধ্যে প্রশিক্ষিত ছিলেন ৬৫০০ জন। বাকি ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করার নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় । তিনি জানান, নতুন করে ইন্টারভিউ পাশ করলে তাঁরা চাকরি ফিরে পাবেন। না হলে চাকরি খোয়াতে হবে। পরে জানা যায়, চাকরি বাতিলের ওই সংখ্যাটা ৩৬ হাজার নয়, ৩২ হাজার। 

আজ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অথবা আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে। তবেডিভিশন বেঞ্চ তার অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে।

২০১৪ সালে ১ লক্ষ ২৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী প্রাথমিকের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে যাঁদের মধ্যে থেকে ৪২ হাজার ৫০০ জন চাকরি পান। যদিও প্রিয়ঙ্কা নস্কর-সহ ১৪০ জন চাকরিপ্রার্থী ২০১৬ সালের প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে মামলা করেন। তাঁদের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আদালতে জানান, এই মামলাকারীদের থেকে কম নম্বর পেয়ে অপ্রশিক্ষিত অনেকেই চাকরি পেয়েছিলেন। ইন্টারভিউয়ে অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট নেওয়ার কথা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। ইচ্ছামত নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। 

শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে তার নির্দেশে জানিয়েছে, আপাতত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল থাকবে। তাঁরা আগের কাঠামো অনুসারেই বেতন পাবেন। তবে ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের রায়কে বহাল রেখে এ-ও জানিয়েছে যে, এই ৩২ হাজার শিক্ষককে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যোগ্যতার পরিচয় দিতে পারলে, এই ৩২ হাজার জনের চাকরিজীবনে কোনও ছেদ পড়বে না।