ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে চরম অনিয়ম! মুখ্যমন্ত্রী পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফের রাজপথে প্রার্থীরা, তদন্তের দাবি

কলেজ সার্ভিসের অধ্যাপক নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির খবর আজ এই রাজ্যে প্রাত্যহিক ভীতির কারণ। ২০১৮ কলেজ সার্ভিস কমিশনের অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে মেধা তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দুবছরের অধিক ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বঞ্চিত প্রার্থীরা। হাইকোর্টে এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তাদের ১৭০ টির বেশি মামলা চলছে, এবং তারা পরিকল্পিত ভাবে সেই মামলাগুলিকে কোর্টে বিচারে বিলম্ব করছে।

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ফ্ল্যাটে টাকা ভর্তি উচ্চশিক্ষা দপ্তরের খাম মিলেছে। বেশ কিছু প্রবাশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে যারা অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে কলেজের চাকরি পাইয়ে দিতেন। পার্থবাবুর সঙ্গে মোনালিসা দাসের মেসেজে উঠে আসা প্রার্থী শ্রীতম মজুমদারের নাম ছিল বাংলা বিষয়ের মেধা তালিকার প্রথমের দিকে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির পর মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, দুর্নীতি বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। জানা থাকলে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। একথা শোনার পর কলেজ সার্ভিসের মেধা তালিকাভুক্তরা পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেন, এবং ওনার দফতরে দুর্নীতি করে নিয়োগের কয়েকশ তথ্য প্রমান জমা করেন। বর্তমান শিক্ষমন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরেও তারা তথ্যসহ ডেপুটেশন জমা দেয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে তপন মণ্ডল বলেন- "মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলছেন দুর্নীতির প্রমাণ দিলে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। যোগ্যরা যাতে বঞ্চিত না হন সেটিও দেখবেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রীকে দুর্নীতির অসংখ্য তথ্য পাঠিয়ে  ওপেন মিডিয়ায় তাকে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের সমস্যার সমাধানে আজও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা দপ্তর নীরব। তাহলে জনসমর্থনে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা এই সরকার কী তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করল?"

এমতাবস্থায় সিএসসির মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থীরা আজ  কলেজ স্ট্রিটে পথে নেমে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। কিছুক্ষণের জন্য তারা কলেজ স্ট্রিটের পথও অবরোধ করে। আন্দোলন শেষে তারা মিছিল করে ধর্মতলায় এসএসসির বঞ্চিত প্রার্থীরা যারা পাঁচশ দিনের বেশি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মঞ্চে গিয়ে তাদের আন্দোলনকে সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন।

পিএইচডি সহ সমস্ত যোগ্যতা এবং বহু বছর ধরে সিএসসি দিয়ে আসা বটানির টিঙ্কু বিশ্বাসও দুর্নীতির শিকার। তিনি বললেন- "এটা আমার শেষ সিএএসি ছিল। বয়সের বাধার কারণে আর কোনোদিনই আমি সিএএসিতে বসতে পারব না। অথচ আমার আয়ের শেষ সুযোগ থেকেও আমি বঞ্চিত হলাম। অথচ আমার থেকে অ্যাকাডেমিক দিক থেকে বহুগুণ পিছিয়ে থাকা প্রার্থীরাও চাকরি পেয়ে গেছে অজানা কারণে। আজ আমি তাহলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো? আমার মতো বহুজন বঞ্চিত রয়েছে এই তালিকায়। সরকারের কি কোনও মানবিকতা নেই?"

স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপনের বিষয়টিও তাদের আন্দোলনে সামিল ছিল। এক হাতে ধরা নিজেদের দাবি-দাওয়া পোস্টার,অন্য হাতে জাতীয় পতাকা। ব্যানারের সামনে চলেছে জাতীয় পতাকা। বঞ্চিত প্রার্থী ড. প্রসেনজিৎ মাইতি বললেন- "স্বাধীনতার ৭৫ বছর চলছে, অথচ দেশকে  আজও আমরা দুর্নীতি মুক্ত করতে পারলাম না। যোগ্য, মেধাবী, মেধা তালিকাভুক্তরা যাদের আজ শ্রেণি কক্ষে ছাত্রদের পাঠ দেওয়ার কথা তারা দুর্নীতির কারণে নিয়োগ না পেয়ে আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে এ রাজ্যে। স্বাধীন ভারতে এর থেকে লজ্জার আর কিছু আছে বলে আমাদের মনে হয় না।"

তাছাড়াও আন্দোলনকারিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় টাকার বিনিময়ে কম যোগ্য, তৃণমূলের নেতামন্ত্রী ও ইন্টারভিউ বোর্ড মেম্বারদের প্রার্থীদের চাকরি দেবার জন্য কলেজ সার্ভিসের যাবতীয় নিয়মকে যতোভাবে ভাঙা যায়  চেয়ারম্যান দীপক কর তা করেছেন এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতি ক্রমে  কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এই নিয়োগে। যার যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি হওয়া দরকার। তাদের মতে উচ্চশিক্ষার গুণমান আজ এই রাজ্যে তলানিতে এসে ঠেকেছে এই দুর্নীতির কারণে।

 আজ তাদের দাবি ছিল মূলত দুটি-

১. ২০১৮ কলেজ সার্ভিসের অধ্যাপক নিয়োগের দ্রুত  নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ব্যক্তির শাস্তি।

২. দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগ।