ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

মারাত্মকভাবে শিক্ষক সংকট সর্বত্র, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিয়ে অবিলম্বে সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগের দাবি

 

নিউজ ডেস্ক: প্রশিক্ষিত শিক্ষক চাই, কিন্তু বেতন দেওয়া হবে মাসে মাত্র ১,৫০০ টাকা! বীরভূমে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের বিজ্ঞাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই সমালোচনা করেছেন। মাসে মাত্র ১৫০০ টাকা, অর্থাৎ দিনে মাত্র ৫০ টাকা! এই টাকায় শিক্ষক? যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের যুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে জটিলতা চলছে। কিন্তু তাঁদের শিক্ষক দরকার। এই স্বল্প সাম্মানিকেই চাকরি করতে রাজি হয়েছেন দু’জন।

বীরভূমের সাঁইথিয়ায় সরকারপোষিত স্কুলে ‘কর্মখালি’ বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। স্কুলের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভূগোল এবং শিক্ষা বিজ্ঞানের জন্য অস্থায়ী এবং আংশিক সময়ের জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হবে। মাসিক চুক্তিতে এর সাম্মানিক হবে ১,৫০০ টাকা। আর এই বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজ্যে দীর্ঘ দিন এসএসসি পরীক্ষা বন্ধ। স্কুল নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে আদালতে। তা হলে সরকারি এবং সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে কি এ ভাবেই নামমাত্র ‘সাম্মানিক’-এ বেসরকারি পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ হবে? এই প্রশ্নও উঠছে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে পৌঁছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে মাত্র ১,৫০০ টাকার মাসিক চুক্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করতে হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার শিক্ষা মহলের একাংশ। 

এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “এবার স্কুলগুলোতে এই চিত্র দেখা যাবে সর্বত্র। মারাত্মকভাবে শিক্ষক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির তদন্ত মাসের পর মাস চলছে কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো আসল কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যার ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের মুখে। উচ্চ শিক্ষিত বেকাররা বাধ্য হয়ে ২/১ হাজার টাকার বিনিময় অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকতার কাজে নিযুক্ত হবেন। মধ্যযুগীয় প্রথায় প্রায় বিনা পারিশ্রমিকে তাঁদের বেগার খাটানো হবে। কোনভাবেই তা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দাবি করছি নিয়োগের দুর্নীতির তদন্ত হোক এবং প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাক কিন্তু কোনভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে রাখা চলবে না। অবিলম্বে সমস্ত শূন্য পদে স্বচ্ছভাবে স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।”

নামমাত্র পারিশ্রমিকেও দু’জন চাকরিপ্রার্থীকে পড়াতে রাজি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দীপিকা সরকার নামে এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘‘খবর পেলাম শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে। তাই আবেদন করতে এলাম।’’ তার পর হেসে ওই চাকরিপ্রার্থী বললেন, ‘‘১,৫০০ টাকা দেবে বলেছে। কিন্তু এখন তো শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। তাই আবেদন করতে হচ্ছে।’’

এ নিয়ে শোভন মণ্ডল নামে ওই স্কুলের শিক্ষক বলেন, ‘‘দু’মাস আগে দুই শিক্ষক ট্রান্সফার নিয়ে অন্য স্কুলে চলে গিয়েছেন। তাই স্কুল পরিচালন সমিতির বৈঠকে ঠিক হয় দু’জন শিক্ষক নেওয়া হবে।’’