ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

লাগামহীন দুর্নীতি সহকারী অধ্যাপক নিয়োগেও! স্কুল সার্ভিসের পর কলেজ সার্ভিসের মেধাতালিকায় উচ্চশিক্ষিত মেধাবীদের বঞ্চনা দূর করে নিয়োগের দাবি

নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ স্বর্বত অস্বচ্ছ, ক্রুটিপূর্ণ, স্বজন পোষনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে; যার কারণে কম যোগ্যতার প্রার্থীদের নিয়োগ হলেও এমফিল/ পিএইচডি প্রার্থীরা মেধাতালিকায় পিছনে স্থান পেয়েছে, নিয়োগ পায়নি। এমনই দাবি বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের। মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মত কলেজ সার্ভিস কমিশন এখন ও স্কোর সিট প্রকাশ করতে পারেনি। 

মহামান্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, ‘নিয়োগে অস্বচ্ছতার কোন স্থান নেই; যদি স্বচ্ছ ভাবে যোগ্যদের নিয়োগ হয়, স্কোর সিট প্রকাশের অসুবিধা থাকার কথা নয়।' সিঙ্গেল বেঞ্চের মত পশ্চিমবঙ্গ তথ্য কমিশন প্রতিটি বিষয়ে স্কোর সিট প্রকাশের নির্দেশ দিলেও কলেজ সার্ভিস কমিশন স্কোর সিট জনসমক্ষে প্রকাশ করে না; নিয়োগের স্বচ্ছতার সাথে আপোষ করে কমিশন অযোগ্যদের নিয়োগ সম্পন্ন করে মেধাবীদের বঞ্চিত করেছে। 

স্কুল সার্ভিস কমিশনের মত কলেজ সার্ভিসের একযাত্রায় পৃথক ফল অসম্ভব; আইনি দুর্দশা কলেজ সার্ভিসের কমিশনকে নাস্তানাবুদ করতে শতাধিক মামলা মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের বিচারাধীন। ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেলে সুপ্রিম কোর্টেও রেহাই পাওয়া সম্ভব হবেনা কারণ কমিশন ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৬,১৯ লঙ্ঘন করে নিয়োগ সম্পন্ন করছে; সবার উপরে আইন, আইনের উপরে কেউ নয়; কলেজ সার্ভিসের অস্বচ্ছ রেগুলেশন তো নয়ই। কোর্টও তাই বলেছে। মেধাতালিকায় শিক্ষিত প্রার্থীদের নিয়োগের কথা সরকার চিন্তা করুক, নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে।  

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি) ২০১৮ সাল থেকে সমগ্র ভারতে চয়েস বেসড ক্রেডিট সিস্টেম (সিবিসিএস) চালু করেছে। এই নিয়ম মেনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত অধ্যাপক এবং প্রতিটি বিভাগের জন্য ন্যূনতম ৪-৬ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি জানায় (পশ্চিমবঙ্গ সরকার নোটিফিকেশন- নং ১১৯৯/১১  -এডিএন (সিএস) / 10M62 / 2001, তারিখ: 27/09/2018)। অথচ পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ কলেজগুলিতে এখনও পর্যাপ্ত স্থায়ী অধ্যাপক নেই; বহু কলেজের বহু বিভাগে এক জনও স্থায়ী অধ্যাপক না থাকলেও, বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও পাস কোর্স পড়ানো চলছে। কলেজের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে সরকারী সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে প্রায় ৩০,০০০ স্থায়ী অধ্যাপকের পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। স্কুল সার্ভিসের মত কলেজ সার্ভিসে শূন্যপদ তৈরি করার প্রয়োজন নেই, শূন্যপদের রিকিউজিশন জমা দিলেই হবে। CBCS পাঠক্রমে সঠিক পাঠদানে ২০১৮ কলেজ সার্ভিসের নিয়োগের মাধ্যমে আইনি জটিলতা সমাধান হবে।

নেট/সেট, এমফিল, পিএইচডি প্রাপ্ত প্রার্থীরা, এমনকী বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়গুলি থেকে ডক্টরেট, পোস্ট ডক্টরেট করে, পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের অস্বচ্ছ, দুর্নীতিপূর্ণ কঠোর ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় মেধাতালিকায় পিছনে স্থান পেয়েছে; ইন্টারভিউতে ৪০%-এর অধিক নম্বর রেখে শুধু নেট/ সেট পাশ করা কম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইন্টারভিউতে ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি নম্বর দিয়ে। আর অধিক মেধার প্রার্থীদের ২০ শতাংশ নম্বর দিয়ে মেধা তালিকার শেষে রাখা হয়েছে। যা নিয়ে বর্তমানে শতাধিক কেস চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। 

ইতিমধ্যে নানা দুর্নীতির বহু তথ্য প্রার্থীরা সামনে এনেছে, ভবিষ্যতে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গার ব্যবস্থা প্রার্থীরা করে ফেলেছে। যা বর্তমান সরকারের বিড়াম্বনার কারণ হচ্ছে; কমিশনের চেয়ারম্যান দীপক করের ক্ষমতা নেই নিয়োগের স্বচ্ছতা প্রকাশের ও স্কোর সিট প্রকাশের থেকে রেহাই পাবার, ফলাফল ভবিষ্যতে প্রকাশ্য। রাজ্য সরকার নিয়োগে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পর কলেজ সার্ভিসেও বিড়াম্বনা চান কিনা!