ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

SSC: নষ্ট OMR শিট, বদলে যেত প্যানেল, সরাসরি কাউন্সেলিং … কোন পথে হত জালিয়াতি? চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। ভালো পরীক্ষা দিয়েও চাকরি মিলছে না, অনেকেই আবার সাদা খাতা জমা দিয়ে ঘুষ দিয়ে ঠিকই চাকরি হাসিল করে নিচ্ছে। যেখানে মেধার কোনও বাচ-বিচার নেই। অনেকেই আবার পরীক্ষা দিয়েছিলেন, প্যানেলে নামও উঠেছিল। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি। এমন ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে এ রাজ্যে। 

এই নিয়ে মামলাও হয়েছে অনেক। সম্প্রতি সেই সব মামলার তদন্ত শুরু হতেই একে একে সামনে আসছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নাম। দুর্নীতির জাল কতদূর ছড়িয়েছিল, সেই রিপোর্ট সামনে আসতেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কেলেঙ্কারির শিকড় অনেক গভীরে। যাঁরা যোগ্য, তাঁদের চাকরি মেলেনি বলেই অভিযোগ। আর রিপোর্টে দেখা গেল, এমন অনেকে চাকরি পেয়েছেন যাঁদের প্যানেলে নাম থাকা তো দূরের কথা, পরীক্ষাই দেননি তাঁরা। 

কিন্তু কিভাবে এই দুর্নীতি হল? কোন প্রক্রিয়ায় সেই নিয়োগ হল? এর পিছনে কাদের মাথা ছিল? সেই সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে বাগ কমিটির রিপোর্টে। শুক্রবার সেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে আদালতে। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ!

রিপোর্ট অনুযায়ী যে প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হত-

প্রথম ধাপ: যারা পরীক্ষায় যাঁরা পাশ করতেন তাঁদের নাম থাকত প্যানেলে। যদিও পরে এসএসসি-র উপদেষ্টা কমিটির তৎকালীন সদস্য শান্তি প্রসাদ সিনহা, সৌমিত্র সরকাররা পাল্টে দিতেন প্যানেল। বদলে যেত নাম। এরপর শান্তি প্রসাদই বানাতেন ভুয়ো সুপারিশ পত্র।

দ্বিতীয় ধাপ: এরপর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে যেত ভুয়ো সুপারিশ পত্র। তাতেই সই করতেন কল্যাণময়। 

তৃতীয় ধাপ: তারপর টেকনিক্যাল অফিসার রাজেশ লায়েককে সুপারিশ পত্র তৈরি করতে দেওয়া হত। সফট কপি, সিডি, ইমেল তৈরি করে করে রাখতেন তিনি। সেই সুপারিশ পত্রেই ছিল এই ৩৮১ জনের নাম।

চতুর্থ ধাপ: যাঁরা পরীক্ষাই দেননি তাঁদের আবার সরাসরি চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই সমস্ত প্রার্থীদের ইন্টারভিউ দেওয়ারও প্রশ্ন নেই। ৩৮১ জন-এর মধ্যে ২২১ জন পরীক্ষাই দেননি। তাই তাঁরা সরাসরি কাউন্সেলিং-এ যান।

পঞ্চম ধাপ: অন্যের র‍্যাঙ্ক যাতে দেখা না যায় সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্যানেলে নিজের র‍্যাঙ্ক ছাড়া যাতে আর কারও র‍্যাঙ্ক দেখা না যায়, সেই ব্যবস্থা করেছিলেন শান্তি প্রসাদ।

ষষ্ঠ ধাপ: শেষে নষ্ট করে দেওয়া হয় ওএমআর শিট।  ওএমআর শিট-এর মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই ওএমআর শিটের নম্বর কারও পক্ষে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই ভুয়ো নিয়োগ করতে সেই শিট নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।