ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে চললেও পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা নেই, সমস্যায় স্কুলগুলি

নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাবর্ষ-২০২১ শেষ হতে চললেও পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণীর বার্ষিক মূল্যায়ণ নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কোন নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। এই ক্লাসগুলির সামগ্রিক মূল্যায়ণ পদ্ধতি, মার্কশিট/ স্কোর কার্ড তৈরি বিষয়ে গাইডলাইন না থাকায় স্কুলগুলি সমস্যায় পড়েছে। শেষ মুহূর্তে এই ক্লাসগুলির ছাত্র ছাত্রীদের সামেটিভ রেজাল্ট কিভাবে করা হবে সে বিষয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে নোটিফিকেশন নেই। নবম শ্রেণী পর্যন্ত একটিভিটি টাস্ক বিতরণ করা হলেও মূল্যায়ন নিয়ে কোন নির্দেশ নেই। এই অবস্থায় শিক্ষক সংগঠন "অল পোস্ট গ্ৰ্যজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন" এর পক্ষ থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে আবেদন জানানো হলো।

বিভিন্ন স্কলারশিপ সহ বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদনের জন্য মার্কশিট বিশেষ প্রয়োজন থাকায় দুটি শিক্ষাবর্ষে (২০২০ ও ২০২১) পরীক্ষা না হওয়ায় গাইডলাইন সহ সম্পূর্ণ মূল্যায়ণ পদ্ধতি সুস্পষ্টভাবে নোটিফিকেশন মাধ্যমে প্রকাশ করে স্কুলগুলিকে  জানানো হোক। সম্প্রতি PBSSM দ্বারা  স্কুলগুলিকে একটিভিটি টাস্ক মূল্যায়ণ নির্দেশ দেওয়া হলেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে সমগ্র সামেটিভ ও ফরমেটিভ মূল্যায়ণ বিষয়ে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রকাশিত হয়নি। 

নতুন শিক্ষাবর্ষ-২০২২ নিদিষ্ট সময়েই শুরু হলে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এছাড়াও, শিক্ষা দপ্তর থেকে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর জন্য সারা রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য একটি নির্দিষ্ট তৃতীয় ভাষার সংস্কৃত, আরবি ও হিন্দি পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে হবে। এই পুস্তকগুলি বিনামূল্যে ছাত্র ছাত্রীদের প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।  

শিক্ষা দপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশিত একক ও অভিন্ন পাঠ্যপুস্তক হলে প্রশ্ন, একটিভিটি টাস্ক বিতরণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে তৃতীয় ভাষার বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হবে।  সমস্ত ক্লাসগুলির বার্ষিক মূল্যায়ণের জন্য মার্কশিট ফরম্যাটের একটি করে নমুনা প্রকাশ করার আর্জি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মেধা অন্বেষণ পরীক্ষার জন্য ২০২০ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম ও নবম শ্রেণীর মার্কশিট প্রয়োজন হওয়ায় কোন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রকাশ করা হয়নি বোর্ডের পক্ষ থেকে। ২০২০ ও ২০২১ -দুটি শিক্ষাবর্ষের পঠনপাঠন,  সিলেবাস,  একাডেমিক দিনসংখ্যা ,মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া সহ সমস্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি ক্লাসের জন্য একাডেমিক ওয়ার্কপ্ল্যান প্রকাশ করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে, মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সমস্ত স্কুলগুলিকে একটি নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করার বিষয়টিও শিক্ষা দপ্তরকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দাবি করা হয়। টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে স্কুল গুলির কাছে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় স্কুলগুলি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। অনেক স্কুলই পাশাপাশি স্কুলের দিকে তাকিয়ে আছে। 

এমতাবস্থায়, বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে স্কুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে টেস্ট পরীক্ষা পিছানোর জন্য। সুতরাং, একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অবশ্যই বোর্ডের পক্ষ থেকে দেওয়া দরকার। এদিকে মাদ্রাসা বোর্ডের পক্ষ থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণীর টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে সুস্পষ্ট নোটিফিকেশন দেওয়া হয়েছে যাতে ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে টেস্ট পরীক্ষা কনডাক্ট করে সফল ছাত্র ছাত্রীদের ফর্ম ফিলাপ নিদিষ্ট দিনে জমা দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে সংগঠনের সম্পাদক চন্দন গরাই বলেন, "শিক্ষাবর্ষ শেষ হতে চললেও বোর্ডের পক্ষ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সামগ্রিক মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সুস্পষ্ট নোটিফিকেশন প্রকাশিত না হওয়ায় রাজ্যের স্কুলগুলি  সমস্যায় পড়েছে। পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ক্লাসের সামেটিভ রেজাল্ট একটি সুস্পষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করা হোক। মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা নিয়েও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কোন নোটিফিকেশন নাই। টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে স্কুলগুলির উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হলে রাজ্যব্যপী বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। শিক্ষা দপ্তরের নিদিষ্ট নিয়মেই টেস্ট পরীক্ষা এককভাবে অনুষ্ঠিত হোক। এছাড়াও, করোনা কালে দুটি শিক্ষাবর্ষে বারবার আবেদন করা হলেও সংস্কৃত সহ তৃতীয় ভাষার বিষয়গুলির কোন একটিভিটি টাস্ক বিতরণ করা হয়নি, এই বিষয়ের  শিক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত পাঠ্যপুস্তক নাই। অবিলম্বে নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য বিনামূল্যে তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হোক।"

গতকাল HS টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে নোটিফিকেশন প্রকাশিত হলেও, PART A & PART B তে প্রশ্নকাঠামো / QUESTION MARKS DISTRIBUTION  ক্লারিফাই করা দরকার ছিল বলেই সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ের সিলেবাস অনুসারে কতটা টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন স্কুলগুলি করবে সেবিষয়েও কোন নির্দিষ্ট তথ্য নেই। আগের ঘোষণা মতো বহু স্কুল ফাইনাল ফরম্যাটে টেস্ট প্রশ্ন তৈরি করে প্রেসে ছাপানোর জন্য দিয়ে দিয়েছিল,তারা সমস্যায় পড়লো। আবার সিদ্ধান্ত বদলের ফলে পুনরায় প্রশ্ন তৈরি করার নোটিফিকেশন হলেও প্রশ্ন নিয়ে কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ নাই। কোন কোন বিষয়ের কোন কোন টপিক গুলি থেকে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন করতে হবে সেগুলো বলে দেওয়া হোক দুই তিন দিনের মধ্যে।  নচেৎ, এক্ষেত্রেও একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে। সুতরাং, অবিলম্বে সংসদ এবিষয়ে সুস্পষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হবে বলেই জানানো হয়েছে।