ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চাইলেন হবু আইএএস, আবেগে চোখে জল স্কুলের পরিচারিকার

 

নিউজ ডেস্ক: বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা আশিসকুমার মিশ্র এ বার ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৫২ র‌্যাঙ্ক করেছেন।  পাশ করার খবরটা পেয়ে তা জানাতে স্কুলে ছুটে গিয়েছিলেন আশিস। ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন বলে কথা। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর তাই তাঁকে গড়ে তোলার ‘কারিগর’দের কাছে সেই খবর জানাতে স্কুলে হাজির হন আশিস।

প্রাক্তন ছাত্রের স্কুলে আসার খবরটা আগেই পেয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষকরা। তাই আশিসকে স্বাগত জানাতে স্কুলের পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা প্রস্তুত ছিলেন। তাঁদের হাতেই তৈরি সেই স্বল্পভাষী, শান্ত আশিস যে দেশের এক জন আমলা হতে চলেছেন। তাই তাঁকে স্বাগত জানাতে কোনও রকম খামতি ছিল না স্কুলে।

আশিস হাজির হয়ে একে একে সমস্ত শিক্ষকের আশীর্বাদ নেন। পড়ুয়াদের তাঁর লড়াইয়ের কাহিনি শোনান। তাদের অনুপ্রেরণা দেন। কিন্তু এই সবের মাঝে একটি ঘটনাই সকলের মন কেড়ে নিয়েছে। আশিস যখন স্কুলে এসে পৌঁছন, তখন শিক্ষকরা সবাই একে একে তাঁকে আশীর্বাদ করছিলেন। তখন দূর থেকেই আর এক জন তাঁকে লক্ষ্য করছিলেন।

এদিন আশিস যখন শিক্ষকদের প্রণাম করছিলেন, সেই সময় দূর থেকে তাঁকে অবার হয়ে দেখছিলেন একজন৷ এক সময় যে ছোট্ট ছেলেটাকে নিজের চোখের সামনে বড় হয়ে উঠতে দেখলেন, সেই ছেলেটা কিনা আজ একজন আইএএস৷ একটা যেন ঘোরের মধ্যে ছিলেন স্কুলের পরিচারিকা বাণী দেবী৷ আশিসও দূর থেকে লক্ষ্য করেছিলেন তাঁকে৷ এর পর আশিসের ডাকতেই যেন সম্বিৎ ফিরে পান বীণা দেবী৷ এর পর সকলকে একেবারে হতবাক করে তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন আশিস৷ চোখ ভিজে যায় বাণীদেবীর৷ প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুতে পড়লেও পড়ে মন ভরে তাঁকে আশীর্বাদ করেন বাণীদেবী৷  

আশিসের এই কাণ্ডে নিজেও একটু অপ্রস্তুতে পড়ে যান বীণা দেবী। তবে কিছুটা আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েন। আশিসকে আশীর্বাদ করেন তিনি। বীণা দেবী বলেন, “আমাদের গর্ব যে আশিস এই স্কুলের ছাত্র ছিল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভাল এবং আদর্শ ছাত্র ছিল। আজ সেই ছেলে আইএএস আধিকারিক হয়েছে। ওর এই সাফল্যে আমি এবং পুরো স্কুল গর্বিত।” এর পরই বীণা দেবী বলেন, “আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না যে এক জন আইএএস আধিকারিক এসে পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ চাইছে।”

বাণীদেবী বলেন, “আশিস আমাদের গর্ব। ছোটবেলা থেকেই ও পড়াশোনায় মেধাবী৷ বরাবরই স্কুলের একজন আদর্শ ছাত্র ছিল সে। আজ ও আইএএস অফিসার হয়েছে। ওর এই সাফল্যে আমি এবং পুরো স্কুল খুবই গর্বিত ও আনন্দিত।”  এর পরই বীণা দেবী বলেন,  ‘‘একজন আইএএস অফিসার এসে আমার পা ছুঁল, আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না৷’’