ব্রেকিং

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

ডোম পদের লিখিত পরীক্ষায় ৩৫ এর মধ্যে ৩৪ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন রাজ মল্লিক, প্রথম পাঁচ জনই….

 

নিউজ ডেস্ক: ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাশ যোগ্যতায় শূন্যপদ ছিল মাত্র ছয়টি। মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে ডোমের ছ’টি শূন্য পদে আবেদন করেছিলেন প্রায় আট হাজার। এরই মধ্যে বড় সংখ্যাই ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং, স্নাতকোত্তর, স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণেরাও। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে শোরগোল পড়ে যায়। রাজ্যের বেকার সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন অনেকেই। প্রাথমিক ভাবে আবেদন যাচাই করে ৭৮৪ জনকে লিখিত পরীক্ষায় ডাকেন এনআরএস-কর্তৃপক্ষ। ১ অগস্ট লিখিত পরীক্ষা দেন ২৮৪ জন। তাঁর ফল প্রকাশ হয়েছে।

NRS মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডোমের চাকরি পেতে, আবেদন করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরাও। গত জুলাইয়ে এই খবর সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। কিন্তু, সেই ডোমের চাকরির লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছেন মাত্র ১৩ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী।  ডোমের চাকরির প্রশ্নপত্রে প্রধানত ময়না তদন্ত সম্পর্কিত প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্ন করা হয়েছিল, ময়না তদন্তে কোনো কোন অঙ্গ পরীক্ষা করা হয়? ছবি দেখে কোনটি কোন অঙ্গ চিনতে বলা হয়েছিল? কোন অঙ্গের কি কাজ? ভিসেরাতে কোন কোন নমুনা সংগ্রহ করতে হয়? এক নম্বরের এরকম ৩৪টি প্রশ্ন করা হয়। ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে নূন্যতম ১৭ নম্বর পেয়ে ৩৭ জন লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছেন। বাছাই করা প্রার্থীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রাজ মল্লিক। যিনি ইতিমধ্যেই ওই হাসপাতালে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। ৩৫ এর মধ্যে ৩৪ নম্বর পেয়েছেন তিনি। মেধাতালিকায় প্রথম পাঁচ জনই ডোম সম্প্রদায়ের। তবে কি অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে? যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর দাবি মেধাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।  

এন আর এস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডােম নিয়ােগের লিখিত পরীক্ষায় ১০-এর নীচে নম্বর পেলেন ৭৭ জন চাকরি প্রার্থী! পাঁচের নীচে পেয়েছেন সাত জন। এমনকী শূন্যও পেয়েছেন একজন। ১৮ আগস্ট এই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। পরীক্ষায় ১৭ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা শুধুমাত্র পাশ বলে বিবেচিত হয়েছেন। সেই হিসেবে ২৮৪ জনের মধ্যে ৩৭ জন পাশ করেছেন এই পরীক্ষায়। অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বহু উচ্চশিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীও রয়েছেন। এমনই জানা গিয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। অধ্যক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্ট প্র্যাকটিকাল এবং মৌখিক ইন্টারভিউ হবে। ১ আগস্ট নেওয়া হয়েছিল এই লিখিত পরীক্ষা।

৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে ডোম পদের লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেছেন ৩৭ জন। এর মধ্যে মহিলা চাকরি প্রার্থী আছেন পাঁচ জন। এবার এই সমস্ত প্রার্থীদের প্র্যাক্টিক্যাল ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। আগামী  ৩১ অগস্ট ওই ৩৭ জনকে ডাকা হয়েছে।

লিখিত পরীক্ষা ছিল ৩৫ নম্বরের। ৫০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ জন সফল হয়েছেন। বৃহস্পতিবার এনআরএস-কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ওই ৩৭ জনকে প্র্যাক্টিক্যাল ও মৌখিক পরীক্ষায় ডেকেছেন। তাঁদের মধ্যে থেকেই বেছে নেওয়া হবে ছ'জনকে। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে রাখা হয়েছিল ডোম অথবা মর্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তবে একটা চাকরি জোটানোর মরিয়া চেষ্টায় আবেদন করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং, স্নাতকোত্তর চাকরি প্রার্থীরা। 

তবে ওই ৩৭ জনের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং, স্নাতকোত্তর বা স্নাতক ডিগ্রিধারী কেউ আছেন কি না, কর্তৃপক্ষ তা জানাতে চাননি। এই নিয়ে শিবিরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে তো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। যেমন লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন, তেমন ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।’’