Breaking News
Home / পলিটিক্স / লোকসভা ভোটের ইতিবৃত্ত: নেহেরু থেকে মোদি, এক গৌরবময় জার্নি

লোকসভা ভোটের ইতিবৃত্ত: নেহেরু থেকে মোদি, এক গৌরবময় জার্নি

বিশ্ব বার্তা নিউজ পোর্টাল: স্বাধীনতার পর প্রথম দুই দশকে কংগ্রেসের নিরঙ্কুশ আধিপত্য থেকে ইন্দিরা যুগের এমার্জেন্সি, রাজীব গান্ধীর জামান থেকে জয়ললিতা, লালু, মুলায়মের আঞ্চলিক দল, মনমোহন সিংয়ের কংগ্রেস থেকে বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি, ভারতের গণতন্ত্র আজ বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এই গণতান্ত্রিক বাবস্তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এখনো পয্যন্ত 16 বার লোকসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনগুলোতে ভারতের রাজনৈতিক চিত্র কিরূপ পরিবর্তন হয়েছে দেখে নেওয়া যাক- 

1951-52

যদিও কংগ্রেসের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে খুব ভালো ফল করে, তবুও বাম ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলিও তখনও যথেষ্ট সংখ্যক আসন পেয়েছিল। জেপি ও আচার্য নরেন্দ্র দেবের নেতৃত্বাধীন সোস্যালিস্ট পার্টি 12 টি আসন জিতছিল এবং জে বি কৃপালানির কিসান মজদুর প্রজা পার্টি (কেএমপিপি) 9 টি আসনে জয়ী হয়ে ছিল। শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর নেতৃত্বাধীন জন সংঘ (পরে বিজেপি) মাত্র 3 টি আসন জিততে পেরেছিল।

1957

এই নির্বাচনেও কংগ্রেস বড় ব্যাবধানে জয় লাভ করে। ভারতের অবিভাজিত কমিউনিস্ট পার্টি 33 টি আসনে জয় লাভ করে, সোশ্যালিস্ট পার্টি ও কেএমপিপি পার্টি নিয়ে গঠিত প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টি 19 টি আসনে জয়ী হয়েছিল। জনসংঘ ভোটের শতাংশ দ্বিগুণ করলেও, কয়েকটি মাত্র আসন পেয়েছিল। আম্বেদকরের অল ইন্ডিয়া সিডিউল্ড কাস্ট ফেডারেশন (এসসিএফ) 6 টি আসন জিতেছিল।

1962

তৃতীয় সাধারণ নির্বাচনের ফিলও প্রথম দুটির ফলাফলের প্রতিফলন ঘটে
এই নির্বাচনে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মত পার্থক্য আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু কতে। রামমোহন লোহিয়া পিএসপি ছেড়ে আবার সোশ্যালিস্ট পার্টির অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধ্য হন। একইভাবে, কংগ্রেসের ডানপন্থী অংশ, স্বতন্ত্র পার্টির অধীনে লড়াই করে। 

1967
নেহেরুর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেস জিতেছেল, কিন্তু আগের মতো আর দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেতে পারে নি। স্বতন্ত্র পার্টি ও জন সংঘ 79 টি আসনে জয়ী হয়েছিল; বাম ও সমাজতন্ত্রীরা 83 টি, আঞ্চলিক দল ডিএমকে এবং আকালি দল 25 টি আসন জিতেছিল।

1971

প্রথম মধ্যমেয়াদি নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে এই নির্বাচনে ছিল বিশাল বিজয় এসেছিল। এই নির্বাচন থেকেই প্রথম বারের মত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইন্দিরা 1969 সালে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন, কিন্তু বেশিরভাগ দলের সাংসদ তার সাথে ছিলেন এবং ইলেকশন কমিশন কংগ্রেস (আর) কে স্বীকৃতি দেয়। তার ‘গরিবি হাটাও’ প্রচার বিশাল সাফল্য পেয়েছিল। স্বতন্ত্র পার্টি মাত্র 8 আসন হদখল করতে পেরেছিল।

1977

1975 সালে জরুরী অবস্থার প্রতিবাদের ফল এই নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছিল। এন্টি কংগ্রেস দলগুলি (ডানপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক) জনতা পার্টি গঠন করে চরান সিংয়ের ভারতীয় লোক দলের প্রতীকের অধীনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মোরারজি দেশাই, স্বল্প সময়ের জন্য, একটি নন-কংগ্রেসি সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠেন।

1980

বামপন্থী সমাজতন্ত্র ও ডানপন্থী জন সংঘ ও স্বতন্ত্র পার্টির সংগঠন জনতা পার্টি একটি অস্থিতিশীল জোট হিসেবে প্রমাণিত হয়। 1979 সালে, চরণ সিং, রাজ নারায়ণ, এবং জর্জ ফার্নান্দেজ গোষ্ঠী তাদের প্রাক্তন জনসংহতি সহকর্মীদের আরএসএস সদস্যতা থেকে বেরিয়ে আসে। রাজনীতি থেকে অবসর নিলেন মোরারজি দেশাই এবং ইন্দিরা গান্ধী এক দৃঢ় বিজয় নিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। 

1984

ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেস 400 টি আসন জিতেছিল এবং 50% ভোটের বেশি ভোট পেয়েছিল। নব গঠিত বিজেপি যা কিনা জন সংঘের উত্তরাধিকারী মাত্র দুটি আসন জিতেছিল এবং মূলধারার বিরোধী দলের ফল এতটাই খারাপ হয়েছিল যে টিডিপি সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।

1989

বোফোর্স স্ক্যান্ডাল, পাঞ্জাবের সন্ত্রাসবাদ এবং শ্রীলংকার তামিল বিদ্রোহে রাজিব গান্ধীর ভূমিকা, প্রধান নির্বাচনী ইস্যু ছিল। সমাজতন্ত্রীরা আবার জনতা দল হিসাবে একত্রিত হয়, তবে কেবলমাত্র 143 টি আসন জিতে পারে। ভিপি সিংয়ের জাতীয় ফ্রন্ট বিজেপি ও বামপন্থীদের বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এক বছরের মধ্যে, চন্দ্র শেখর গোষ্ঠী বিভক্ত হয়ে বাইরে থেকে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন। 

1991

কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং নরসিংহ রাও-এর অধীনে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেন, যা কিনা হাউসটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারে। তিনি উদারীকরণ ও কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যান। তবে তার সময়কালে – জেএমএম ঘুষ এবং হার্শাদ মেহতা কেলেঙ্কারি বড় ডিবেট হয়ে দাড়িয়েছিল। 1992 সালে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছিল।


1996

বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল এবং সরকার গঠন করার জন্য আমন্ত্রিত হয়েছিল। বিজেপি সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হওয়ায় 13 দিন পর অ্যাটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকার পড়ে যায়। দ্বিতীয় বৃহত্তম দল কংগ্রেস, সরকার গঠন করতে অস্বীকার করে কিন্তু জনতা দলকে বাইরে থেকে সমর্থন করে। 1996 সালের জুনে, এইচডি দেভ গৌড়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন, তবে এক বছরের মধ্যে তিনি পদত্যাগ করেন এবং পরে আই কে গুজরাল প্রধানমন্ত্রী হন, তিনিও এক বছরেরও মধ্যে পদত্যাগ করেন।

1998

যদিও বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল, তবে আঞ্চলিক দলগুলি খুব ভাল ফল করে, তারা 126টি আসন জিতেছিল। 13 দলীয় জোট করে বাজপেয়ী সরকারের প্রধান হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। এআইএডএমকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় 13 মাস পর মাত্র 1 ভোটের জন্য সরকারের পতন হয়।

1999

বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। বিজেপি মোট 162 টি আসন জিতেছিল এবং 29% ভোট পেয়েছিল। কংগ্রেসের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়েছিল। এই নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, ভবিষ্যতে একক পক্ষের পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন হবে। বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জোট সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করে।

2004

তিনটি রাজ্যে ভাল ফল করে, বিজেপি লোকসভা নির্বাচন আগিয়ে নিয়ে আসে। বিজেপি প্রচার করছিল , তাদের আমলে ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হয়েছে। এছাড়া কোনো এন্টি-ইনকামবেন্সি ও ছিল না। কিন্তু দলটির ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’ প্রচারণা ব্যর্থ হয়েছিল। কংগ্রেস আবার দারুন ভাবে ফিরে আসে ইউপিএ সরকার গঠন করে। 

2009

কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার, যা 2004 সালে সরকার গঠন করে, এটির প্রধান সহযোগীতা ছিল – বামফ্রন্ট, যা ভারত-মার্কিন পারমাণবিক চুক্তির পর সমর্থন প্রত্যাহার করে। এই নির্বাচনে কংগ্রেস খুব ভাল ফল করে, আবার দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার গঠন হয়। কংগ্রেস মোট 206টি আসন জিতেছিল।

2014

ইউপিএ-2 সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে পুঁজি করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি চমকপ্রদ ফল করে। 1984 সালের পর প্রথমবারের মত, একক দল হিসাবে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, জোটের অনিবার্যতার ধারণাকে অস্বীকার করে। কংগ্রেস মাত্র 44 টি আসন পায়। এরফলে কংগ্রেস বিরোধী দলের মর্যাদাও হারায়।

Check Also

প্রত্যেক দেশবাসীকে অন্তত একশো টাকা করে অনুদান হিসেবে দান করার আর্জি জানালেন আশা ভোঁসলে

নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সিনেজগতের নামজাদা তারকারা ইতিমধ্যেই তাদের সামর্থ অনুযায়ী অর্থের অনুদান করেছেন …

লকডাউন পরিস্থিতিতে অসহায় দুঃস্থ পরিবারের হাতে খাদ্যদ্রব্য সামগ্রী তুলে দিল হেল্প কেয়ার সোসাইটি

নিউজ ডেস্ক: লকডাউন পরিস্থিতিতে অসহায় দুঃস্থ পরিবারের হাতে খাদ্যদ্রব্য সামগ্রী তুলে দিল নদীয়া জেলার হাঁসখালী …

লকডাউনের ফলে চরম বিপাকে গৃহশিক্ষকরা, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন পেশ!

নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমনে বিপর্যস্ত দেশ থেকে বিদেশের মানুষ ও অর্থনীতি। প্রভাব …

মুখ্যমন্ত্রীর আপদকালীন রিলিফ ফান্ডে‌ ১,০০,০০০ টাকা অনুদান বর্ধমান ফুডিস ক্লাবের

বর্ধমান: প্রায় ২৫০০ এরও বেশি পরিবারকে রেশন বিলি করা, প্রতিদিন প্রায় ১০০০ করে রুটি বিতরণ …

মুখ্যমন্ত্রীর আপদকালীন রিলিফ ফান্ডে‌ ৩,৫৪,৪৭১ টাকা অনুদান বর্ধমানের বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থার

নিউজ ডেস্ক: ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম …

ভারতে কাজ হারাবে ১৪ কোটি, স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে বড় সংকট: রাজন

নিউজ ডেস্ক: করোনার জেরে গোটা বিশ্বেরই অর্থনীতির বেহাল দশা। দেশের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। এবার …

ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভের ছেলে-মেয়েদের ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ স্থগিত হল: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: লকডাউনের কারণে রাজ্য শিক্ষা দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবম-দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের টেলিভিশনের মাধ্যমে যে …