Breaking News
Home / সাহিত্য / রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি -এন.কে.মণ্ডল (চতুর্দশ পর্ব)

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি -এন.কে.মণ্ডল (চতুর্দশ পর্ব)

          না না আমি নামতে চাই না তুই নামলে নামতে পারিস। ঠিক আছে আমি নামছি। কিন্তু আমার কিছু অসুবিধে হলে ডাক দেব। যাবি বলছিস যা। তবে না যাওয়াটায় ভালো হবে।সেলিম নেমে আস্তে আস্তে করে।

কিছুটা যাওয়ার পর দেখতে পেলো একটি সিমেন্টের তৈরি রাস্তা। হাটতে থাকে। রাস্তার দুইধারে মশালের আলো আছে।সেলিম ছোট থেকেই সাহসি ছিল তাই তেমন একটা ভয় আসছে না।সিড়ির শেষে এসে পৌঁছালে দেখে যে পাহাড়ের নীচে এক বিশাল দোতলা বাড়ি আছে। তেমন একটা লোকজন নেই। বাড়িটিতে অনেকগুলি কক্ষ আছে।হটাৎ করে একা যাওয়া ঠিক হবে না মন হচ্ছে।তাই আবার কমলের কাছে ফিরে আসে। তারপর সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। কমল সবকিছু শোনার পর।দুজনেই নেমে যায় গর্ত দিয়ে। হ্যাঁ ঠিক, সেলিম যা যা বলেছে সবই আছে। কিন্তু আনন্দ পড়েছিল এখানেই তার কি প্রমান আছে। আরে ভাই প্রমানের সঙ্গে সাথ কি। কি ব্যাপার এখানে বাড়ি তা আবার পাহাড়ের নীচে।যা আজব ব্যাপার।মাটির তলে ঘর থাকে জানা আছে। কিন্তু পাহাড়ের নীচে বাড়ি থাকে জানা ছিল না।

ওসব বাদ দে এখন। ব্যাপারটা কি জানতে হবে চল।কমল বলল চল তাহলে। আস্তে আস্তে গিয়ে প্রথমে প্রথমতলায় এক একটা করে কক্ষ খুঁজতে শুরু করল।দোতলায় প্রবেশ করতে দেখা গেলো। অনেক সোনা,রুপা,টাকা ছড়িয়ে টিটিয়ে আছে। যেনো কেউ এক্ষুনি ঘাস বস্তায় পুরেছে আর কিছু পড়ে আছে।এমন মনে হচ্ছে। ধীরেধীরে গিয়ে দেখে ছোট একটা ঘরে আনন্দ শুয়ে আছে। আনন্দকে ডেকে ডেকে ঘুম ভাঙ্গলো। ও তোরা। আয় বস। সেলিম বলল এখানে তুই কি করছিস। আর বলিস না। আমি তো পাহাড়ে উঠতে উঠতে হাপিয়ে গেলাম। তাই কিছুক্ষণ পরে একটি সমান্তরাল রাস্তা পেয়ে হাটছিলাম। আর হাটতে গিয়ে এখানে পড়ে গেছি। আর এখানে কয়েকজন লোক থাকে। কি যেন খুট খুট করে কাজ করে। আর জানিস পাশের ঘরে অনেক সোনা দানায় ভর্তি করা আছে।এই বাড়ির পিছনদিকে একটা ছোট্ট ভালো কক্ষ আছে সেখানে ওরা থাকে। এখানে আসে মাঝেমধ্যে। দিনে তিন থেকে পাঁচবার অন্তত হবে। কিন্তু তুই পালাস নি কেন। আরে তুই কি বলিস সুন্দর সুন্দর খাউন দাউন ছেড়ে কি যেতে ভালো লাগে। তাই দুদিন পরেই যাব তাই ভেবে আছি। ওহ খাউন দাউন না।আমাদের নাওয়া খাওয়া শেষ করে এখন আমাদের খাউন দাউন শেখাচ্ছে।

এদিকে সোমনাথ কাকা কমলদের কাজে ভরসা না করে। যা হয় হোক পুলিশ কে জানানো দরকার।তাই পুলিশকে জানিয়ে পাহাড়ের দিকে আসছে। সঙ্গে পুলিশের জিপ আর সোমনাথ কাকা এবং তার সহযাত্রীরা।কমল বলল চলতো কোন ঘরে সোনা দানা আছে দেখব। চল তাহলে। ঘরে যেতেই দেখা যায় যে কিছু মাল আছে। কিন্তু লোক কোথায়।লোকজন তো কেউই নেই। তাহলে হয়তো ওদের ঘরে আছে সেখানেই চল। ওদেরও দেখা হয়ে যাবে। ঘরে যেতেই দেখে সোনা, রুপা, নকল বা জাল টাকা ছাপানো মেশিন রয়েছে। কমলদের দেখতেই ওদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়ে গেলো। ওরা দুজন ছিল। তাই ওদের হাতাহাতি করার পর তাড়াতাড়ি টাকাসুমো নিয়ে পালাচ্ছিল। এবং কমল ও সেলিম পিছুপিছু টাটাসুমো পাস ধরে ওদের সঙ্গে যাচ্ছিল।রাস্তায় সোমনাথ কাকা ও পুলিশের গাড়ি দেখেই। কমল ও সেলিম হাঁক দেয়। কাকা এদের ধরুন। ধরুন। এরা স্মাগলার। এরা আনন্দকে আটকিয়ে রেখেছিল। পুলিশ শোনামাত্রই ধাওয়া করে।এবং পাহাড়ের রাস্তার মাঝখানে গিয়ে ধরে ফেলে।দুজন ছিল তারমধ্য একজন ব্যাক্তি বিখ্যাত সাধু মহারাজ।তাকে অধিক মানুষেই চিনে বা ভক্তি শ্রদ্ধা করে।কিন্তু ব্যাটারা যে এতবড় অসামাজিক কাজ করে তা আমাদের জানা ছিলো না। থানার বড়বাবু ওদের হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে লকাপে পুরে দেয়। এবং এই দু:সাহসিক কাজ করার জন্য। তোমাদের বড় পুরস্কৃত করা। আর আজকে আমার বাংলোতে সন্ধাবেলায় চলে আসবে ডিনারের জন্য নিমন্ত্রন রইল।

কমল ও সেলিমকে জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ওদের সোনার মেডেল দিয়ে বীরসন্তান উপাধিতে ভূষিত করেন।এবং বলেন তোমরা পড়াশোনা করে এগিয়ে যাও তোমাদের আমি আমার ডিপার্টমেন্টেই চাকরি দেব।আর এখন থেকেই সিবিআই এর সঙ্গে ঘোরাঘুরি করার জন্য আমি তোমাদেরকে কাজে লাগাতে চাই। ওরা আনন্দে আত্মহারা। পুরস্কার পেয়ে খুব খুশি তাই সোমনাথ কাকার শ্যালিকার বাড়ি ফিরে আসে। কাকা বলল। এবার বুঝেছি যে প্রাচীণ জমিদার বাড়িটতে ওরাই ভূতের আচরণ করত।যাতে করে কেউ সেখানে না যায়।কারণ বাড়িটির কাছেই ছিল ওদের আস্তানা। তারা কোনোভাবেই চাইত না। বাড়িটিতে কেউ আসুক। শেষমেশ করে এবার বাড়ি ফেরার পালা।তাই আজকের রাত্রিটুকু থাকবে।শোয়ার আগে দোতলার ছাদে কমল খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু শান্তিতে বাতাস খাচ্ছে। আর এমন সময় বিলু আসলো ছাদে। কমলের ঠিক পাশেই দাঁড়ালো।এখন একটা রোমাঞ্চকর সময়। তাই কমল পকেট থেকে একটি সুন্দর গোলাপ নিয়ে হাটু গেড়ে বসে বিলুকে বলল। আই লাভ ইউ। আমি তোকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। নিজের থেকেও বেশি।কয়েক মিনিট কথা বলার পর। দুজন দুজনে মিলে জড়িয়ে ধরল। আর আকাশ থেকে এক ফোঁটা এক ফোঁটা করে বৃষ্টি নামল।এমন সময় রানি দেখে নিল। এবং সেলিম, আনন্দ কে বলল। এবং সকলে ছাদে এসে কমল ও বিলুকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানালো।ফের পরের দিন সকাল সকাল বেড়িয়ে পড়ল নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। কমল ও বিলুর প্রেম অক্ষয় থাকুক এটাই আশা করি।

সমাপ্ত

Check Also

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি-এন.কে.মণ্ডল (একাদশ পর্ব)

          আমরা তো যাবই রে, তোরা গেলে যেতে পারতিস তাই বললাম …

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি – এন.কে.মণ্ডল (দশম পর্ব)

         গিয়ে গাড়ি থামল পাহাড়ের নীচে।পাহাড়ের নীচে লোকাল ছেলেরা ছোটখাটো ব্যাবসা করছে। …

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি – এন.কে.মণ্ডল (নবম পর্ব)

             আরেকটু গিয়ে দেখা গেলো এক আশ্চর্যজনক জিনিস দেখতে পেলো। …

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি (অষ্টম পর্ব) – এন.কে.মণ্ডল

অষ্টম পর্ব….                 বিলুও কমলের পিছুপিছু গেলো। কাকাবাবু …

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি (ষষ্ঠ পর্ব) – এন.কে.মণ্ডল

রহস্যময় প্রাচীন বাড়ি-এন.কে.মন্ডল

বাংলা গল্প: চৌরাস্তার মোড়, লেখক: এসকেএইচ সৌরভ হালদার

বাংলা গল্প: চৌরাস্তার মোড় লেখক: এসকেএইচ সৌরভ হালদার

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি (পঞ্চম পর্ব) – এন.কে.মণ্ডল

রহস্যময় প্রাচীণ বাড়ি (পঞ্চম পর্ব) - এন.কে.মণ্ডল

Leave a Reply

Your email address will not be published.