Breaking News
Home / পশ্চিমবঙ্গ / পশ্চিমবঙ্গের কিছু জনপ্রিয় বেড়ানোর জায়গা

পশ্চিমবঙ্গের কিছু জনপ্রিয় বেড়ানোর জায়গা

বিশ্ব বার্তা নিউজ পোর্টাল: ভৌগোলিক চেহারায় পশ্চিমবঙ্গ যেন ভারতের প্রতিরূপ। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে বিশাল পর্বত, আবার অন্যদিকে রয়েছে সমুদ্র। তাই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে এই রাজ্য বিশ্বে অতুলনীয়। উত্তরে যেমন মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে হিমালয়ের উত্তুঙ্গ শৈল চূড়া আবার অন্য দিকে নীল সমুদ্রের জল ধুয়ে দেওয়া তটরেখা। রাজ্যের পশ্চিমে পুরুলিয়ার অনুচ্চ পাহাড়শ্রেণির আকর্ষণও কিছু কম নয়। ভারতের জাতীয় পশু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবন পেয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর তকমা। আসুন আজ আমরা জানি পশ্চিমবঙ্গের কিছু দর্শনীয় স্থান সম্মন্ধে-

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়্যাল:
নিঃসন্দেহে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়্যাল কলকাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দর্শনীয় স্থান। এর অবিতর্কিত সৌন্দর্য, অদ্বিতীয় অট্টালিকা হিসাবে কলকাতাকে নিঃসন্দেহে মহিমান্বিত করেছে। ভারতে ব্রিটিশ রাজত্বের শেষের দিকে মহারানী ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে নির্মিত অকৃত্রিম সাদা দেদীপ্যমান, এই ইমারত এক শীর্ষ স্থাপত্যের নিদর্শন তুলে ধরে।

হাওড়া ব্রিজ:
হুগলী নদীর উপর নির্মিত অবিশ্বাস্য দৃশ্যপট সহ শোভার্বধিত রূপে দাঁড়িয়ে থাকা, হাওড়ার ব্রিজ পশ্চিমবঙ্গের আকর্ষণকে এক উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। এটি আবার রবীন্দ্র সেতু নামেও পরিচিত। মোট ২৬,৫০০-টন ইস্পাত সহযোগে নির্মিত এটি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত খিলান সেতু।

সায়েন্স সিটি:
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত সায়েন্স সিটি, রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন স্থল। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই, তার সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, পাণ্ডিত্যপূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনার জন্য সুপরিচিত। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞান চেতনা গড়ে তোলার জন্য, রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এই সায়েন্স সিটি গড়ে উঠেছে।

বিড়লা তারামণ্ডল:
এটি কলকাতার এক গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণীয় স্থান যা সারাবছর বহু পর্যটকদের কাছে টেনে আনে। ১৯৬২ সালে বিড়লা গোষ্ঠীর এক শিক্ষামূলক সংস্থা এটি প্রতিষ্ঠিত করে। পশ্চিমবঙ্গের বিড়লা তারামণ্ডল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্যোতির্বিদ্যা মানমন্দির বলে খ্যাতি অর্জন করেছে।

ফোর্ট উইলিয়াম কলকাতা:
কলকাতায় অবস্থিত ফোর্ট উইলিয়াম,পশ্চিমবঙ্গ বাংলা সংস্কৃতির একটি উপকেন্দ্র। এটি এক বিশিষ্ট পর্যটক গন্তব্য। এই রাজ্য কিছু অসাধারণ স্থাপত্য প্রাসাদের জন্য বিখ্যাত যেমন – ফোর্ট উইলিয়াম ও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়্যাল। ফোর্ট উইলিয়াম ব্রিটিশ আমলে তৈরি, যা ব্রিটিশ রাজের সামরিক অন্তর্দৃষ্টির একটি চিত্তাকর্ষক প্রমাণ।

নিক্কো পার্ক,কলকাতা:
নিক্কো পার্ক, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় ও বৃহত্তম ভ্রমণ উদ্যান, যা প্রায় ৪০ একর এলাকা জুড়ে আছে। এই উদ্যান বিশ্বের প্রথম চিত্তবিনোদন উদ্যান হিসাবে এস.এ ৮০০০ (সামাজিক দায়বদ্ধতা)-এর বিরল সাক্ষ্যদান, এশিয়ায় প্রথম আই.এস.ও – ১৪০০১ (পরিবেশ পরিচালনা পদ্ধতি)-র এবং ভারতের প্রথম চিত্তবিনোদন পার্ক হিসাবে আই.এস.ও – ৯০০১ (শ্রেষ্ঠ পরিচালনা পদ্ধতি)-র দ্বারা সম্মানিত হয়েছে।

আলিপুর চিড়িয়াখানা:

ভারতের প্রাচীনতম বিধিবদ্ধ চিড়িয়াখানা (দেশীয় করদ রাজ্যের চিড়িয়াখানাগুলি বাদে) এবং কলকাতার অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। ১৮৭৬ সালে এই চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আয়তন ৪৫ একর। প্ৰতি বছর শীতের মরশুমে হাজারে হাজারে ভ্রমণ পিপাসু এই জায়গায় ভিড় করে।

শান্তিনিকেতন:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবাংলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ১৮৬৩ সালে রবীন্দ্রনাথ এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেন এবং ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগে পরিণত হন। এখানে বাউল গায়ক এবং মেলা এবং পালিত মেলা (ডিসেম্বর), জয়দেব মেলা (জানুয়ারী), বসন্ত উত্স (হোলি) (মার্চ মাসে) প্রভৃতি অনুষ্টানগুলি বছরভর পালিত হয়।

মন্দারমণি:
ভারতে অন্যতম বৃহৎ সমুদ্র সৈকত হিসেবে পরিচিত, মন্দারমণি পশ্চিমবঙ্গে অন্যতম সেরা দর্শনীয় স্থান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চৌলখোলা থেকে প্রায় 14 কিলোমিটার দূরে এটি পশ্চিমবঙ্গে দ্রুততম বর্ধনশীল পর্যটক আকর্ষণীয় কেন্দ্র। সূর্যোদয় দেখার জন্য এটি এক নিখুঁত স্থান; কেউ এখানে সার্ফিং, জেট স্কিইং, কলা নৌকা সড়ক, এ টিভি বাইক এবং বাঙ্গি ট্রাম্পোলিন মত জল ক্রীড়া উপভোগ করতে পারেন।

সুন্দরবন:
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ এবং বৃহত্তম মংক্রান্ত ফরেস্ট হিসাবে, সুন্দরবন বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। এটি ৫,৪00 বর্গ কিমি বিস্তৃত। সুন্দরবন হল এক বায়োফিয়ার রিজার্ভ, যেটি ২০০১ সালে ইউনেস্কো এর ম্যান এবং বায়োস্ফিয়ার (এমএইচ) প্রোগ্রামের স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিখ্যাত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সুন্দরবনে দেখতে পাওয়া যায়।

দিঘা:
এতই হল এক সমুদ্র সৈকত, যেটা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অবিস্তিত। দীঘা তার সৈকতের জন্য পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সারাবছর ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দিঘাতে বেড়াতে আসে। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত ও মনোরম আবহাওয়ার জন্য এটি পর্যটকদের বারবার আকর্ষণ করে।

দার্জিলিং:
কলকাতা ছাড়াও, দার্জিলিং হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভ্রমণ স্থল। দার্জিলিং-এর চা, লাল রোডোদ্যানড্রন, সাদা ম্যাগনোলিয়া, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ঔপনিবেশিক যুগের বিল্ডিং এবং টয়-ট্রেনের সুবিধা, পশ্চিমবঙ্গের এই স্হান একটি নিখুঁত ভ্রমণ স্থান।

মুর্শিদাবাদ:
ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত, মুর্শিদাবাদ হল পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাচীন শহর। এটি এক সময় ছিল বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার রাজধানী। নগরটি এখনও নবাবদের স্মৃতি বহন করে। এখানকার মসজিদ, সমাধি, এবং উদ্যান নির্মাণ করে, মানুষদেরকে কাছে টেনে নিয়ে আসে। নবাবদের আমলে নির্মিত হাজারদুয়ারী প্রাসাদ, পর্যটকদেরকে দারুন ভাবে আকর্ষণ করে।

হুগলী:
হুগলি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভ্রমণ স্থান যেটি শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস ও সারদা দেবী কয়েক বছর ধরে অবস্থান করেছিলেন। এই স্থানটি একসময়ে পর্তুগিজ, ফরাসি এবং ডাচ দ্বারা উপনিবেশিত ছিল এবং একটি ঐতিহাসিক তাত্পর্য আছে।

অন্যান্য গন্তব্য স্থল:
এছাড়া আরও যে ভ্রমন স্থান গুলো ভ্রমণ পিপাসুদেরকে বারবার টেনে নিয়ে আসে সেগুল হলো- নিবেদিতা সেতু, রেস কোর্স, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, শহীদ মিনার, চিত্রকূট আর্ট গ্যালারী, দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল, জেনেসিস আর্টস গ্যালারী, গ্যালারি লা মেয়্যার, আর্টস একর, সিমা গ্যালারী, বিদ্যাসাগর সেতু, স্পন্দন আর্ট গ্যালারী, আশুতোষ মিউজিয়াম অফ ইন্ডিয়ান আর্ট, আ্যকাডেমী অফ ফাইন্ আর্টস, বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া, মিরিক, মায়াপুর, নবদ্বীপ ইত্যাদি।

Check Also

সাজানো ভণ্ডামি, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের সঙ্গে আপনি বর্বরতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে মুকুল রায়

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের শাসকদল জোর দিয়েছে জন সংযোগ কর্মসূচি। পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে দিদিকে বলো কর্মসূচি। এই কর্মসূচি উপলক্ষেই গত বুধবার দিঘার দত্তপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেখানে দীঘর উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প ঘোষণা করেন। এরপর বাড়ি বাড়ি ঢুকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন তিনি। যেতে যেতেই রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে নিজে হাতে চা বানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তা পরিবেশনও করেন। এই ঘটনাকে জীবনের ছোটো ছোটো আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসাবেই অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নেওয়া হলে, আদৌ কি যোগ্য প্রার্থীরা প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন? উঠছে প্রশ্ন!

এসএসসির মাধ্যমে সহ শিক্ষক নিয়োগে বারে বারে উঠেছে অভিযোগ। কখনো বা এনসিটির রুলস না মানা আবার কখনো বা যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীকে মেধা তালিকায় জায়গা করে দেওয়া। শুধুই যে সহ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এমন অভিযোগ আছে তা নয়, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও উঠেছে একাধিক অভিযোগ। এসএসসির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছেও প্রচুর। ফলে রাজ্যের স্কুল গুলিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বারেবারে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

এক দেশ, এক পরিবার, এক সন্তান, আইন করে চালু করা উচিত: বিজেপির শরিক নেতা

এক দেশ, এক পরিবার, এক সন্তান, আইন করে চালু করা উচিত

দীঘায় চলবে সি প্লেন, তৈরি হবে পুরীর মত জগন্নাথ দেবের মন্দির: মমতা ব্যানার্জী

দীঘা

সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে

সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে

অতিথি অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণে ইউজিসির নিয়মকে লঙ্ঘন, আদালতের পথে চাকুরী প্রার্থীদের একাংশ!

অতিথি অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণে ইউজিসির নিয়মকে লঙ্ঘন, আদালতের পথে চাকুরী প্রার্থীদের একাংশ!

কলেজের অতিথি অধ্যাপকদের ধামাকাদার বেতন বৃদ্ধি

কলেজের অতিথি অধ্যাপকদের ধামাকাদার বেতন বৃদ্ধি