Breaking News
Home / ধর্ম / দোল পূর্ণিমা: এ যেন রঙের উৎসব

দোল পূর্ণিমা: এ যেন রঙের উৎসব

বিশ্ব বার্তা নিউজ পোর্টাল: দোল পূর্ণিমা হল রঙের উত্সব যা হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতিবছর ফেব্রুয়ারী বা মার্চ মাসে পূর্ণিমাতে ফাগুন পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর পালিত হয়। এই দিনে মানুষ সমস্ত বিভেদ ভুলে, নতুন রঙে এবং নতুন ভাবে তাদের সম্পর্ক শক্তিশালী করে তোলে। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভালবাসা এবং আত্বিক যোগাযোগ বাড়ায়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই উত্সব পালিত হচ্ছে এবং এর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দোলযাত্রা প্রধানত একটি হিন্দু বৈষ্ণব উৎসব। হোলি উৎসবটির সঙ্গে দোলযাত্রা সম্পর্কযুক্ত। এই উৎসবের অপর নাম হল বসন্তোৎসব। বৈষ্ণব ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা মনে রেখেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। এই দিন সকালে রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির নিয়ে একে অপরকে রং মাখিয়ে দেন। দোল উৎসবের এই ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়, আবার একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।

এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলে আবির ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়ে ওঠে। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসবের সূচনা করা হয়, যেটা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে। দোলের আগের দিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্ন্যুৎসবের আয়োজন করা হয়, একে হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া বলা হয়। উত্তর ভারতে হোলি উৎসবটি বাংলার দোলযাত্রার পরদিন পালিত হয়।

এটি যেহেতু রঙের উৎসব, তাই এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র আবির। এই দিন সকাল সকাল আট থেকে আশি সকলে একে অপরকে আবির মাখাতে রাস্তায় নেমে পড়ে। আগে মূলত আবির দিয়ে খেলা হত কিন্তু এখন আবিরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রঙ। দোলের সাত দিন আগে থেকেই দোকানদাররা রঙের পসরা নিয়ে বসে।

এই দিনটি শান্তিনিকেতনে বিশেষভাবে পালিত হয়। আগে শান্তিনিকেতনে দোল পূর্ণিমায় দোল উৎসব পালন হত না বরং বসন্তকে আহ্বান জানানোর জন্য সঙ্গীত, নৃত্য অনুষ্ঠান, নাট্য অভিনয়কে কেন্দ্র করে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হত। এখন এর সঙ্গে রং খেলা যুক্ত হয়ে, বসন্ত উৎসবটি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন এটি দোল বসন্ত উৎসব হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে। এই দিন সকালে সকলে সেখানে রাস্তায় প্রভাত ফেরি বার করে আবির খেলতে খেলতে ” ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল লাগলো যে দোল” গানটি গায়। এবং নৃত্যের তালে তালে একে অপরকে রং মাখিয়ে দেয়। এই দিনটি শান্তিনিকেতনে এক অদ্ভুত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যেবেলায় দোল পূর্ণিমাকে ঘিরে গৌরপ্রাঙ্গণে চলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকের যাত্রা পালা।

কলকাতার মল্লিক বাড়িতেও দোল উৎসব পালন করার বিশেষ রীতি আছে। সেখানে পুরোনো রীতি মেনে আজও শ্রীমতী ও গোপীচাঁদ বল্লভের এবং রাধাকান্তের পুজো করা হয়। যদিও আগের জৌলুস হারিয়েছে। তবে কিছুদিন আগেও মল্লিক পরিবারে এই দিনটি বিশেষ আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হত। 

Check Also

সাজানো ভণ্ডামি, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের সঙ্গে আপনি বর্বরতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীকে মুকুল রায়

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের শাসকদল জোর দিয়েছে জন সংযোগ কর্মসূচি। পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে দিদিকে বলো কর্মসূচি। এই কর্মসূচি উপলক্ষেই গত বুধবার দিঘার দত্তপুরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সেখানে দীঘর উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প ঘোষণা করেন। এরপর বাড়ি বাড়ি ঢুকে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন তিনি। যেতে যেতেই রাস্তার পাশে একটি চায়ের দোকানে ঢুকে নিজে হাতে চা বানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর তা পরিবেশনও করেন। এই ঘটনাকে জীবনের ছোটো ছোটো আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসাবেই অভিহিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নেওয়া হলে, আদৌ কি যোগ্য প্রার্থীরা প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন? উঠছে প্রশ্ন!

এসএসসির মাধ্যমে সহ শিক্ষক নিয়োগে বারে বারে উঠেছে অভিযোগ। কখনো বা এনসিটির রুলস না মানা আবার কখনো বা যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীকে মেধা তালিকায় জায়গা করে দেওয়া। শুধুই যে সহ শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এমন অভিযোগ আছে তা নয়, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও উঠেছে একাধিক অভিযোগ। এসএসসির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছেও প্রচুর। ফলে রাজ্যের স্কুল গুলিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বারেবারে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

এক দেশ, এক পরিবার, এক সন্তান, আইন করে চালু করা উচিত: বিজেপির শরিক নেতা

এক দেশ, এক পরিবার, এক সন্তান, আইন করে চালু করা উচিত

দীঘায় চলবে সি প্লেন, তৈরি হবে পুরীর মত জগন্নাথ দেবের মন্দির: মমতা ব্যানার্জী

দীঘা

সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে

সরকারের অনৈতিক সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে

অতিথি অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণে ইউজিসির নিয়মকে লঙ্ঘন, আদালতের পথে চাকুরী প্রার্থীদের একাংশ!

অতিথি অধ্যাপকদের স্থায়ীকরণে ইউজিসির নিয়মকে লঙ্ঘন, আদালতের পথে চাকুরী প্রার্থীদের একাংশ!

কলেজের অতিথি অধ্যাপকদের ধামাকাদার বেতন বৃদ্ধি

কলেজের অতিথি অধ্যাপকদের ধামাকাদার বেতন বৃদ্ধি