Breaking News
Home / সৌন্দর্য / ঘুরে আসুন মন্দির নগরী: বিষ্ণুপুর (শেষ পর্ব)

ঘুরে আসুন মন্দির নগরী: বিষ্ণুপুর (শেষ পর্ব)

বিকাশ চক্রবর্তী: বিষ্ণুপুর থেকে প্রাইভেট গাড়ী ভাড়া করে নিলে, একইদিনে পাঁচমুড়ার পাশাপাশি মুকুটমণিপুর অথবা শুশুনিয়া পাহাড় ঘুরে আসা যায়।

আমরা একটু সকাল সকাল বেরিয়ে পরেছিলাম। প্রথমে পাঁচমুড়া ঘুরে, মুকুটমণিপুর এবং শুশুননিয়া গিয়েছিলাম।

মুকুটমণিপুরের প্রধান আকর্ষণ হলো, কংসাবতী ও কুমারী নদীর মিলনস্থলে নির্মিত বাঁধ। বাঁধের উপর দিয়ে পিচ বাঁধানো রাস্তা (প্রায় সাত কিলোমিটার) দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

এখানে বোটিংয়ের ব্যবস্থা আছে। দুই নদীর মিলনস্থলে ছোটো ছোটো আইল্যান্ড আছে। যদিও নামা যায় না।

তবে নৌকো করে বনপুকুরিয়া গ্রামে যেতে পারেন, এখানের আভয়ারণ্যে অনেক হরিণ আছে। স্থানীয় বাচ্চারা গাছের পাতা (হরিণের খুব প্রিয়) আঁটি আঁটি করে বিক্রি করে, এই পাতার আঁটি দেখলেই হরিণের পাল আপনার কাছে চলে আসবে।

মুকুটমণিপুরে ড্যামের কাছেই আছে মুসাফিরানা পার্ক। এখান থেকে ড্যামের অসাধারণ view পাওয়া যায়।

মুকুটমণিপুর থেকে শুশুনিয়া অনেকটা রাস্তা। তবে শুশুনিয়া একবার ঢুকে গেলে আপনার সমস্ত ক্লান্তি কেটে যাবে, যখন আপনি দূর থেকে দেখতে পাবেন শুশুনিয়া পাহাড়।

ট্রেক করেও পাহাড়ে উঠা যায়, আবার, পায়ে হেঁটেও উপরে উঠা যায়। খাড়া রাস্তা, দুধারে বুনো গাছগাছালি, পাখির কলতান, আর কিছু দূর পর পর চা-শরবতের দোকান। উপরে উঠলে পুরো শুশুনিয়া গ্রামটিকে চোখের লেন্সে ধরা যায়।

পাহাড়ে উঠার মুখেই একটা প্রাকৃতিক জলের ঝর্ণা আছে, এবং সেখানে একটা পাথরের তৈরী নরসিংহদেবের প্রাচীন মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। এই ঝর্ণার জল স্থানীয় মানুষেরা খান, আমরাও খেয়েছিলাম।

শুশুনিয়া পাহাড়ের নীচে অনেক পাথরের তৈরী সামগ্রীর দোকান আছে, সেখান থেকে আপনি কেনাকাটাও করতে পারেন।

হাতে যদি আরো একটা দিন থাকে, যেতে পারেন “ডোকরা” গ্রাম বিকনাতে। ডোকরা হল ধাতু গলিয়ে ছাঁচে ফেলে তৈরী করা শিল্পবস্তু।

তাছাড়া, যাওয়া যেতে পারে, বিষ্ণুপুরের কাছে গড়বেতা গ্রামে। গড়বেতার গনগনিতে দেখতে পাবেন ল্যাটেরাইট মাটিতে প্রাকৃতিক ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

বিষ্ণুপুরী বালুচুরী, তাঁতেবোনা শাড়ী, গামছা বিষ্ণপুরের আরেক আকর্ষণ। সরাসরি শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে তাঁতবোনাও দেখে নিতে পারবেন।

বিষ্ণুপুরে প্রচুর হোটেল, লজ আছে। আমরা হোটেল লক্ষীপার্কে ছিলাম। লক্ষীপার্কের নিজস্ব রেষ্টুরেন্ট আছে।

তবে কাছেই মোনালিসা হোটেল আছে। সেখানে ঘরোয়া খাবার দাবার পাবেন।

বিষ্ণুপুরে এলে অবশ্যই পোস্তর বড়া, মোতিচুরের লাড্ডু খাবেন।

হাওড়া থেকে প্রচুর ট্রেন বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরে যায়। তাছাড়া, দূর্গাপুর থেকে বাসেও যেতে পারেন।

Check Also

চলছে লকডাউন, কমছে কর আদায়, কর্মীদের বেতন ছাঁটাইয়ের পথে বিভিন্ন রাজ্য

নিউজ ডেস্ক: চলছে লকডাউন, ফলে দ্রুতহারে প্রতিটি রাজ্য সরকারের আয় কমছে। কর আদায় শূন্য। প্রতি …

“অবাক পৃথিবী, অবাক করলে তুমি”: মইদুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক ঐক্য মুক্তমঞ্চের রাজ্য কোর কমিটি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে …

দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় সামগ্রী, সার্বিয়াতে ইক্যুইপমেন্ট ও সেফটি গিয়ার্স পাঠাচ্ছে ভারত!

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকে একটি ট্যুইট এসেছে। ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে …

রাজ্যে এক লাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭, মৃত বেড়ে ৫, হোম কোয়ারানটিনে পাঠানো হয়েছে ১৫০৪৮২

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে একলাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৭! করোনাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে …

ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ১৪০০, মৃত বেড়ে ৩৫

নিউজ ডেস্ক: দেশে বেড়েই চলছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের …

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ লক্ষ টাকা দান করলেন মমতা

নিউজ ডেস্ক: করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পিএম কেয়ার ফান্ডে মুক্ত হস্তে দান করার …

লকডাউনের জেরে দূষণের ক্ষত সারিয়ে ‘সুস্থ’ হয় উঠছে ওজন স্তর, সজীব হচ্ছে পৃথিবী

নিউজ ডেস্ক: করোনার জেরে বিভিন্ন দেশে চলছে লকডাউন। ফলে এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে বায়ু দূষণের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.