Breaking News
Home / পশ্চিমবঙ্গ / আমরা আশাকর্মীরা সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত: আমাদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই?

আমরা আশাকর্মীরা সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত: আমাদের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই?

নিউজ ডেস্ক: একেবারে গ্রামীণ স্তরে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে স্বাস্থ্য পরিসেবা দেওয়ার কাজ করি আমরা আশা কর্মীরা। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আমাদের একেবারে অসুরক্ষিত অবস্থায় কাজের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নতুন নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এলাকায় প্রতিটি বাড়ি ঘুরে পরিবারের কেউ যদি বাইরে থেকে এসে থাকে তার নাম, ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দপ্তরে জমা দিতে হবে। এর সাথে নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের আয়রন সিরাপ খাওয়ানো থেকে শুরু করে পূর্বনির্ধারিত প্রতিটি কাজ যেমন ভাবে করার নির্দেশ রয়েছে তাও মেনে চলতে হচ্ছে।

অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো যখন গোটা দেশ ও রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে এবং যথাসম্ভব প্রতিটি পরিবারকে তার বাড়ির মধ্যে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে তখন আমাদের প্রটেকশনের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই অসুরক্ষিত অবস্থায় এইসব কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জন্য বরাদ্দ নেই কোনো মাস্ক। নেই অন্য কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরলে জানানো হয় যে, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের কাজ করতে হবে। পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘সরকার আপনাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকার জীবন বীমা করে দিয়েছে। এই কারণে আপনার যদি মৃত্যু হয় তাহলে আপনার পরিবার পাঁচ লক্ষ টাকা পাবে।’ আমাদের জীবনের মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা!

আশা কর্মীরা যখন এইসব কাজের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে তখন এলাকার মানুষ তাদের দেখে আতঙ্কিত হচ্ছে। কেননা, তারা প্রতিটি বাড়ি ঘুরে ঘুরে আরেক বাড়িতে হাজির হচ্ছে। অসুরক্ষিত অবস্থায় পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে প্রত্যেকের বাড়ি যাওয়ার ফলে এলাকার মানুষ আশঙ্কায় আশা কর্মীদের উপর ক্ষুদ্ধ হচ্ছে। এমনকি বাড়িতে বাড়িতে শিশুদের আয়রন সিরাপ খাওয়ানোর জন্য একইভাবে অভিভাবকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোনো কারণে যদি কেউ আক্রান্ত হয় তার দায় সরাসরি আশা কর্মীদের উপর বর্তাবে। এভাবে আমাদের সামাজিকভাবে অত্যন্ত সংকটজনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া অসুরক্ষিত অবস্থায় আমরা আশা কর্মীরা যখন বাইরে থেকে আসা লোকজনের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবো তখন আমরাও যে আক্রান্ত হবো না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আশাকর্মীরা সুরক্ষার জন্য নূন্যতম একটি মাস্কের দাবি করলে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, আশা কর্মীদের জন্য এইসব কোনো ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ টাকার জীবনবীমার বিনিময়ে আমাদের সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত অবস্থায় বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হবে। অত্যন্ত সাধারন পরিবারের অধিকাংশ আশাকর্মীদের উপর রয়েছে তাদের সন্তান ও সংসারের সমস্ত দায়-দায়িত্ব। এভাবে সুরক্ষাহীন অবস্থায় সম্পূর্ণ বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কেন আমাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে? আমাদের জন্য নূন্যতম কোনো প্রোটেকশনের ব্যবস্থা থাকবে না? স্বাস্থ্য দপ্তর তথা সরকারের কাছে কি আমাদের জীবনের ও পরিবারের কোনো মূল্য নেই?

Please follow and like us:

Check Also

সিদ্ধান্ত বদল! কাল থেকে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ হবে এবিপি আনন্দে

নিউজ ডেস্ক: প্রথমে বলা হয়েছিল, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ হবে দূরদর্শনে, ডিডি বাংলা …

গরীব দুঃস্থ মানুষের সাহায্যার্থে এবার এগিয়ে এল দক্ষিনডিহি মা সারদা একাডেমী

নিজস্ব প্রতিনিধি: শিক্ষার পাশাপাশি এবার মানব সেবায় এগিয়ে এল দক্ষিনডিহি মা সারদা একাডেমী। ৫ই এপ্রিল …

আদৌ কি পুজোর আগে সম্ভব হবে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ? উঠছে প্রশ্ন!

নিউজ ডেস্ক: করোনার জেরে গোটা বিশ্বেরই অর্থনীতির বেহাল দশা। দেশের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। কঠিন …

ক্লাস নাইন থেকে টুয়েলভের ছেলে-মেয়েদের ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ স্থগিত হল: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: লকডাউনের কারণে রাজ্য শিক্ষা দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবম-দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের টেলিভিশনের মাধ্যমে যে …

মুখ্যমন্ত্রীর আপদকালীন রিলিফ ফান্ডে‌ ৩,০০,০০০ টাকা অনুদান ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজের

নিউজ ডেস্ক: ভয়ঙ্কর করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। আমাদের রাজ্যও তার ব্যতিক্রম …

মাসের ১ তারিখের মধ্যে বেতন হয়েছে, অনেক রাজ্যে ৫০ শতাংশ বেতন কেটে নিলেও আমরা আটকাইনি: মুখ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চলছে লকডাউন, একই সঙ্গে চলছে আর্থিক সঙ্কট। তারপরেও মাসের ১ তারিখের মধ্যে …

ভাঁড়ারে টান তাই হবে না নতুন নিয়োগ, তবে হাত পড়ছে না বেতনে, জারি হল নির্দেশিকা

নিউজ ডেস্ক: করোনার জেরে গোটা বিশ্বেরই অর্থনীতির বেহাল দশা। দেশের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। কঠিন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.

RSS
Follow by Email