Breaking News
Home / হেড লাইনস / আজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন, আজ বাংলার গর্বের দিন

আজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন, আজ বাংলার গর্বের দিন

নিউজ ডেস্ক: উনিশ শতকের প্রথম ভাগ থেকেই বাংলা তথা ভারতে যে নবজাগরণ শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কলকাতাই। ব্রিটিশ শাসনে কলকাতা কিছু গৌরবজনক ঘটনার সাক্ষী হয়। যেমন ১৮৩৫ সালে এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় কলকাতাতেই। কলকাতা মেডিকেল কলেজে তখন এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকেও ছেলেরা পড়তে আসত। ১৮৫৭ সালে তৈরি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গোটা পূর্ব ভারতে (এখনকার বাংলাদেশ ধরে) প্রথম এমন কুলীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯১১ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত ভারতবর্ষের রাজধানী ছিল কলকাতা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের প্রাচীনতম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৫৪ সালে ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বোর্ড-অফ-কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড ভারতের প্রেসিডেন্সি শহরগুলিতে (কলকাতা, বোম্বাই ও মাদ্রাজ) তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেন। এই সুপারিশ অনুসারে ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন”-এ সই করেন। এই কারণে এই দিনটিকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাদিবস গণ্য করা হয়। অন্যদিকে অপর দুই বিশ্ববিদ্যালয় বোম্বাই এবং মাদ্রাজের প্রতিষ্ঠা দিবস যথাক্রমে ১৮ জুলাই ১৯৫৭ এবং ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৫৭৷

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম আচার্য ও উপাচার্য হলেন যথাক্রমে গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি স্যার জেমস উইলিয়াম কোলভিল। ১৮৫৮ সালে যদুনাথ বসু ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক হন। ১৮৫৮ সালের ৩০ জানুয়ারি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট কার্যকর হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সেনেটের প্রথম সভাটি বসেছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কাউন্সিল রুমে। ক্যামাক স্ট্রিটের (অধুনা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর সরণি) একটি ভাড়া করা ঘরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম চলত। বহু বছর সেনেট ও সিন্ডিকেটের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে রাইটার্স বিল্ডিংসে। ১৮৫৭ সালের মার্চ মাসে কলকাতার টাউন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম প্রবেশিকা পরীক্ষা আয়োজিত হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২৪৪ জন ছাত্র। ১৮৬২ সালে সেনেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই ২,৫২,২২১ টাকা ব্যয়ে ঐতিহাসিক সেনেট হলটি নির্মিত হয়। ১৮৭৩ সালের ১২ মার্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেনেট হলের উদ্বোধন করা হয়েছিল।

১৯৩৭ সালে তদনীন্তন উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনুরোধ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি “বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত” রচনা করে দেওয়ার জন্য। তখন রবীন্দ্রনাথ একটির বদলে দুটি গান রচনা করে দেন – “চলো যাই, চলো যাই” ও “শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান”। “চলো যাই, চলো যাই” গানটি গৃহীত হয় এবং ১৯৩৭ সালের ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে কুচকাওয়াজে ছাত্রদের দ্বারা প্রথম গীত হয়। ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত হিসেবে “শুভ কর্মপথে ধর নির্ভয় গান” গানটি গৃহীত হয়৷

Check Also

পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল সহ পাকড়াও এক পার্শ্বশিক্ষক, অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন!

নিউজ ডেস্ক: প্রশ্ন আউট ঠেকাতে ও অবাঞ্চিত ঘটনা রুখতে মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকা পুরোপুরি …

প্রশ্ন ফাঁস করলে বা মোবাইল নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ধরা পড়লে আজীবন বহিষ্কার পরীক্ষার্থীকে!

নিউজ ডেস্ক: প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে বারে বারে অস্বস্তিতে পড়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। আগামী ১২ মার্চ থেকে …

ইসরোতে চাকরির বড় সুযোগ, উচ্চ মাধ্যমিক পাস থাকলেই করা যাবে আবেদন

নিউজ ডেস্ক: বড় শূন্যপদ পূরণ করতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পীঠস্থান দ্য ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ …

হেলিয়াগাছী অঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের ব্যবহার ও সচেতনা নিয়ে সম্পন্ন হল বিশেষ শিবির

নিউজ ডেস্ক: আজ আমার বিদ্যালয় দঃ ২৪ পরগনার হেলিয়াগাছী অঃপ্রাঃ তে এক বিশেষ শিবির আয়োজন …

ভারতীয় ডাক বিভাগে গ্রামীণ ডাক সেবক (জিডিএস) পদে ২০২১টি শূন্যপদে নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেলে গ্রামীণ ডাক সেবক-শাখা পোস্ট মাস্টার (বিপিএম), সহকারী …

এসএসকে-এমএসকে শিক্ষাকেন্দ্রগুলি নিয়ে সরকারের বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শিশু ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলি (এসএসকে-এমএসকে) নিয়ে সরকারের এই মুহূর্তে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা …

বর্ধিত বেতনের বিজ্ঞপ্তিতে অসঙ্গতি, আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রাথমিক শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক: গত ১৩ ডিসেম্বর শিক্ষকদের বর্ধিত বেতনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। অপশন ফর্ম পূরণ করার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.